আপনার আদরের স্ত্রী বিড়ালটি কি হঠাৎ অনেক বেশি আদুরে হয়ে উঠেছে? কিংবা তার খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে? যদি আপনার বিড়ালটি স্পে (Spay) করা না থাকে এবং কোনো মেল ক্যাটের সংস্পর্শে আসে, তবে সে গর্ভবতী হতে পারে। একটি বিড়ালের গর্ভধারণকাল সাধারণত ৬৪ থেকে ৬৬ দিন (প্রায় ৯ সপ্তাহ) হয়ে থাকে।
আজকের ব্লগে আমরা জানব বিড়ালের প্রেগন্যান্সির লক্ষণ এবং এই সময়ে তার বিশেষ যত্নের নিয়মাবলী।
বিড়াল গর্ভবতী কি না বুঝবেন যেভাবে (শারীরিক লক্ষণ)
মেটিং বা মিলনের ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে বিড়ালের শরীরে পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করে:
-
হিট সাইকেল বন্ধ হওয়া: যদি আপনার বিড়াল প্রতি ১০-১২ দিন পরপর হিটে আসত এবং হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটি গর্ভাবস্থার প্রথম লক্ষণ হতে পারে।
-
নিপল বা স্তন ফুলে ওঠা: গর্ভাবস্থার ৩ সপ্তাহের দিকে বিড়ালের নিপলগুলো বড় হয় এবং রঙ গাঢ় গোলাপি হয়ে যায়। প্রজননকারীরা একে "পিংকিং-আপ" বলেন।
-
ওজন বৃদ্ধি ও পেট ফোলা: গর্ভাবস্থার ৪র্থ সপ্তাহের পর থেকে বিড়ালের ওজন বাড়তে থাকে (প্রায় ২-৩ কেজি)। ৫ম সপ্তাহের দিকে পেট স্পষ্টভাবে ফুলে ওঠে।
-
মর্নিং সিকনেস: মানুষের মতো বিড়ালেরও গর্ভাবস্থার শুরুতে বমি বমি ভাব বা খাবারে অরুচি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত বমি হলে দ্রুত ভেটের পরামর্শ নিন।
আচরণগত পরিবর্তন
প্রেগন্যান্ট বিড়ালের মেজাজেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসে:
-
অতিরিক্ত ভালোবাসা: বিড়াল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মানুষের সঙ্গ চায় এবং একা থাকতে ভয় পায়।
-
ঘুমের পরিমাণ বৃদ্ধি: হরমোনের পরিবর্তনের কারণে গর্ভবতী বিড়াল দিনের অনেকটা সময় ঘুমিয়ে কাটায়।
-
নেস্টিং (Nesting): বাচ্চা প্রসবের প্রায় ২ সপ্তাহ আগে থেকে বিড়াল নিরাপদ ও নিরিবিলি জায়গা খুঁজতে শুরু করে। তারা আলমারির কোণ, বিছানার নিচ বা কোনো বাক্সে নরম কাপড় জমিয়ে বাসা তৈরি করার চেষ্টা করে।
গর্ভবতী বিড়ালের বিশেষ যত্ন ও খাবার
গর্ভাবস্থায় একটি মা বিড়ালকে সাধারণ সময়ের চেয়ে ১.৫ গুণ বেশি পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন।
-
পুষ্টিকর খাবার: মা বিড়ালের শরীরে হাড়ের গঠন এবং বাচ্চাদের বিকাশের জন্য উচ্চ প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার নিশ্চিত করুন। বর্তমান সময়ে ভালো মানের কিটেন ফুড গর্ভবতী বিড়ালের জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে।
-
ভ্যাকসিনেশন: গর্ভাবস্থায় কোনো নতুন ভ্যাকসিন দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বিড়াল প্রেগন্যান্ট হওয়ার আগেই তার সব ভ্যাকসিন আপডেট রাখা উচিত।
-
স্বাস্থ্য পরীক্ষা: ১৭-২৫ দিনের মধ্যে একজন অভিজ্ঞ ভেট হাত দিয়ে পেটে প্রাণের স্পন্দন অনুভব করতে পারেন। তবে এটি নিজে ঘরে চেষ্টা করবেন না, এতে বাচ্চার ক্ষতি বা Miscarriage হতে পারে। প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা এক্স-রে করিয়ে নিন।
প্রসবের প্রস্তুতি ও 'নেস্টিং' ঘর
৬০ দিন পার হয়ে গেলে আপনার বিড়াল যেকোনো সময় বাচ্চা প্রসব করতে পারে। এই সময়ের প্রস্তুতিগুলো হলো:
-
নিরাপদ ঘর: বাড়ির একটি শান্ত কোণে একটি আরামদায়ক বক্স বা নেস্টিং ঘর তৈরি করে দিন। ভেতরে নরম কম্বল বা কাপড় দিয়ে দিন।
-
বিড়ালের পছন্দকে গুরুত্ব দিন: বিড়াল যদি আপনার ঠিক করে দেওয়া জায়গার বদলে আলমারি বা বাস্কেটে বাচ্চা দিতে চায়, তবে তাকে বাধা দেবেন না। তাকে ডিস্টার্ব করলে সে আতঙ্কিত হয়ে যেতে পারে।
-
খাবারের রুচি: প্রসবের ২৪ ঘণ্টা আগে বিড়াল খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে। এই সময়ে তাকে হালকা ওয়েট ফুড (Wet Food) দিলে সে শক্তি পাবে।
0 comments